ডায়াবেটিস এবং পায়ের যত্ন

– রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি থাকলে তা পায়ের স্নায়ুর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। যদি আপনার পায়ের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্থ হয় তবে পায়ে প্রথমদিকে পিন ফোঁটার মত অনুভূতি হয়ে থাকে।

– পরে ধীরে ধীরে পায়ের অনুভূতিও কমে যেতে থাকে। ঐ সময়ে পায়ে কোন ব্যথা বা আঘাত টের পাওয়া যায় না। এমনও হতে পারে আপনি আঘাত পেলেন বা কেটে গেল কিন্তু আপনি বুঝতে পারছেন না বা পরবর্তিতে সংক্রমিত হয়ে পায়ের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

– ডায়াবেটিসে পায়ের রক্ত চলাচলও কমে যেতে পারে। পায়ের রক্ত চলাচল কম বা না থাকলে যেসব উপসর্গ দেখা দেয় সেগুলো হলোঃ

১) ব্যয়ামের সময় বা হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা হয়।

২) পায়ে আঘাত পেলে বা কেটে গেলে সহজে সারে না।

৩) ত্বক শুষ্ক এবং রুক্ষ হয়ে পায়ের পাতা ফেটে যায়।

 

পায়ের যত্নে পরামর্শ

– ডায়াবেটিসে পায়ের সংক্রমণও বেড়ে যেতে পারে। এসবের সম্মিলিত প্রভাবে কেটে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে।

– যদি আপনি ডায়াবেটিক রোগী হন তবে প্রতিবার ডাক্তার বা ডায়াবেটিস এডুকেটরের নিকট আপনার পা দুটি অবশ্যই পরীক্ষা করাবেন।

– যে সকল উপসর্গ থাকলে জরুরী চিকিৎসা গ্রহণ করা প্রয়োজনঃ

ক) পায়ে ব্যথা হওয়া।

খ) পা লাল হওয়া বা রঙের পরিবর্তন হওয়া।

গ) পা খুব গরম হয়ে যাওয়া।

ঘ) পায়ে কোনরকম দুর্গন্ধ হওয়া।

ঙ) পায়ে ক্ষত বা ফোষ্কা দেখা দেওয়া।

পা পরিষ্কার রাখতে হবে

– পায়ের নখ খুব সাবধানতার সাথে কেটে ছোট করে রাখুন। তবে খুব দাবিয়ে কাটা যাবে না। খেয়াল রাখবেন কাটার পর পায়ের নখ যেন সোজা হয় এবং নখের ধারগুলো মসৃন হয়।

– পায়ের ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করুন। তবে আঙ্গুলের মাঝখানে লোশন ব্যবহার করবেন না।

– জুতা বা মোজা পরার আগে ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিন, যেন এমন কোন বস্তু সেখানে না থাকে, যার দ্বারা পা আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে।

– প্রতিবার জুতা খোলার সময় নিজে পা পরীক্ষা করে নিবেন।

– যে সব জুতা আরামদায়ক নয় বা টাইট এমন জুতা পরবেন না। এতে পায়ের ক্ষতি হতে পারে। খোলা জুতা বা স্যান্ডেল পরবেন না।

– সবসময় বন্ধ এবং আরামদায়ক স্যান্ডেল বা জুতা ব্যবহার করুন। কখনো খালি পায়ে হাঁটবেন না। এমনকি ঘরেও আরামদায়ক স্যান্ডেল পরে হাঁটুন। জুতা কিনবেন বিকেলের দিকে।

– সুতি বা উলের মোজা ব্যবহার করুন। মোটা মোজা আপনার পা ঊষ করে তুলবে।

– পায়ের কর্ণ বা বাড়তি শুষ্ক চামগা নিজে কাটবেন না।

– সম্ভব হলে প্রতিদিন পা পর্যবেক্ষণ করা, বিশেষ করে উপরের দিক, পায়ের আঙ্গুলের ফাঁকে এবং পায়ের তলা ভালভাবে পরীক্ষা করা জরুরী।

 

সচিত্র পায়ের যত্ন